কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি : মুকুন্দ চক্রবর্তী

 



কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি
মুকুন্দ চক্রবর্তী



কবি পরিচিতি:

কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্যতম একজন কবি। কবি নিজের সম্পর্কে যে পরিচয় দিয়েছেন তা থেকে জানা যায় কবির উপাধি ছিল কবিকঙ্কন এবং কবির নাম হল মুকুন্দ এবং চক্রবর্তী ছিল কবির বংশগত পদবি।

 চন্ডীমঙ্গলের পুঁথি হতে জানা যায় কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বর্ধমানের দামিন্যা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্ধমানের রত্না নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে  অবস্থিত এই গ্রাম যেখানে কবির পূর্বপুরুষের বসবাস ছিল। কবির মায়ের নাম ছিল দৈবকি এবং পিতার নাম হৃদয় মিশ্র।

 কবির আত্মপরিচয় অংশ থেকে জানা যায় মানসিংহ যখন উড়িষ্যা ও বাংলার সুবেদার, সেই সময় মামুদ শরীফ ছিলেন বাংলার ডিহিদার। মামুদ শরীফ এর অত্যাচারে দামুন্যাবাসীরা যেমন  গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান, কবিও তেমন তার পুত্র এবং ভাইকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। যাওয়ার পথে দেবী চণ্ডী কবিকে স্বপ্নে তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। শিলাবতী নদী পেরিয়ে কবি পৌঁছে যান আরড়ায়। আরড়া রাজ বাঁকুড়া রায় কবি মুকুন্দরাম এর পাণ্ডিত্যে খুশি হন। রাজা বাঁকুড়া রায় তার নিজ পুত্র রঘুনাথ এর পঠন-পাঠনের কাজে কবিকে নিযুক্ত করে দেন। পরবর্তীতে যখন কবির ছাত্র রঘুনাথ রাজা হন তখন তার অনুরোধেই কবি "চন্ডীমঙ্গল" কাব্য রচনা শুরু করেন। কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত চন্ডিকা মঙ্গলকাব্যটির একাধিক অন্য নামও পাওয়া যায়। যেমন 'অম্বিকামঙ্গল', 'অভয়ামঙ্গল', 'কবিকঙ্কণ চণ্ডী ইত্যাদি।

  • কবিতার উৎস :
 কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর 'চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আখেটিক খন্ড' থেকে আলোচ্য কাব্যাংশটি গৃহীত হয়েছে।

  • বিষয় সংক্ষেপ :
 কলিঙ্গদেশের আকাশ ঘন মেঘাচ্ছন্ন। এতটাই গাঢ় অন্ধকার যে কলিঙ্গ অধিবাসীরা নিজেদের চেহারা দেখতে পাচ্ছে না। উত্তর-পূর্ব কোণে ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উত্তরাংশের প্রবল বাতাসে সুদূর দিগন্ত থেকে মেঘের গুরুগম্ভীর আওয়াজ শুনা যায়। কালো মেঘে মুহূর্তের মধ্যেই আকাশ ছেয়ে যায় এবং প্রবল মুষলধারায় বৃষ্টি নেমে আসে। সমগ্র কলিঙ্গদেশ প্রবল  মেঘের গর্জনে কেঁপে ওঠে। ভয়, আশঙ্কায় প্রজারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে থাকে। নির্মল প্রকৃতি ধুলোতে ঢেকে যায়। চাষীদের ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়। মনে হয় যেন আটটি বিশাল হাতি ভাসিয়ে দিতে চায় সমগ্র কলিঙ্গ দেশকে। বর্ষার এতটাই বেগ , যা দেখে মনে হয় কোন এক বিশাল হাতির দল তাদের শুঁড় দিয়ে জল বর্ষণ করে চলেছে। যেহেতু পৃথিবী জলমগ্ন হয়ে পড়েছে তাই স্থল-জলের সীমারেখা মিলে মিশে এক হয়ে গেছে। মেঘের এতটাই গর্জন যে একে অপরের কথা কেউ শুনতে পাচ্ছে না। রাত আর দিনের পার্থক্য বোঝা যাচ্ছে না। প্রজারা ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করে তাদের এই  বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য। সাপেরা তাদের আশ্রয় হারিয়ে জলে ভাসতে থাকে প্রবল বৃষ্টির কারণে। সাত দিন যে প্রবল বৃষ্টি হয় তাদের ঘর বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায় এবং চাষ করা শস্যের  প্রবল ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভাদ্র মাসের পাকা তাল যেমন বৃহদাকারের সেরকম এক একটা শিল ঘরের চাল ভেদ করে মানুষের ঘরের মেঝেতে পড়তে থাকে। নদ নদীর জল প্রচন্ড বেগে নগরে প্রবেশ করে এবং ঘরবাড়ি সব ভেঙেচুরে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। শ্রীকবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী তাঁর 'অম্বিকামঙ্গল'কাব্যে এই ধ্বংসের কাহিনী সঙ্গীত আকারে শুনিয়েছেন ।



১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো: ১×৩=৩


১.১ অম্বিকামঙ্গল গান শ্রী কবিকঙ্কন। 'অম্বিকা' হলেন–
(ক) দেবী লক্ষলক্ষী (খ)দেবীমনসা (গ) দেবী চন্ডী (ঘ)দেবীশেতলা

উত্তর : দেবী চন্ডী


১.২ 'সঘনে চিকুর পড়ে ব্যঙ্গ – তড়কা বাজ' । এক্ষেত্রে 'চিকুর' শব্দের অর্থ —
(ক) চুল (খ) আকাশ (গ) বিদ্যুৎ (ঘ) বৃষ্টি

উত্তর : বিদ্যুৎ


১.৩ যার নাম স্মরণ করলে বজ্রপাত বন্ধ হয় বলে মানুষের বিশ্বাস, তিনি হলেন—

(ক) ব্যাসদেব (খ) জৈমিনি
(গ) দেবী চন্ডী (ঘ) গজরাজ

উত্তর : জৈমিনি



২. সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর: প্রশ্নমান ১

২.১  ঈশান বলতে কোন দিক বোঝায়?
উত্তর: উত্তর-পুর্ব দিককে বোঝায়।

২.২ কলিঙ্গ দেশে ঝড় বৃষ্টি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে ?
উত্তর: মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর লেখা চন্ডীমঙ্গল কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

২.৩ চারিদিকে অন্ধকার হয়ে যাওয়ার কারন কি?
উত্তর: আকাশ মেঘে ঢেকে যাওয়ার কারনে চারিদিকে অন্ধকার হয়েছে।

২.৪ হরিত শব্দটির অর্থ কি?
উত্তর: সবুজ

২.৫ মহি শব্দের প্রতিশব্দ লেখ।
উত্তর: ধরা, পৃথিবী

২.৫ সোঙরে শব্দের অর্থ কি?
উত্তর: স্মরণ করা

Next Post
No Comment
Add Comment
comment url